যখন মূসা তার পরিবারকে বললো, ‘এক আগুন আমার নজরে পড়েছে, অনতিবিলম্বে আমি তোমাদের নিকট সেটার কোন খবর নিয়ে আসছি, অথবা তা থেকে কোন জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসবো, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো’।
অতঃপর যখন আগুনের নিকট এলো তখন ঘোষণা করা হলো যে, ‘কল্যাণ দেওয়া হয়েছে তাকে, যে এ আগুনের আলোময় ভূমিতে রয়েছে, অর্থাৎ মূসা এবং (তাদেরকে) যারা সেটার আশেপাশে রয়েছে অর্থাৎ ফিরিশ্তাগণ এবং পবিত্রতা আল্লাহ্র, যিনি রব সমগ্র জাহানের।
এবং আপন লাঠি নিক্ষেপ করো’। অতঃপর যখন মূসা দেখলো সেটা কুটিল গতিতে ছুটাছুটি করছে সাপের ন্যায় তখন সে পেছনের দিকে ফিরে চলে গেলো এবং ফিরেও দেখলো না। আমি বললাম, ‘হে মূসা! ভয় করো না, নিশ্চয় আমার সান্নিধ্যে রসূলগণের ভয় থাকে না।
এবং আপন হাত নিজ বক্ষ পার্শ্বের বস্ত্রের মধ্যে প্রবেশ করাও। তা বের হয়ে আসবে শুভ্র-আলোকিত নির্দোষ হয়ে; নয়টা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত ফির’আউন ও তার সম্প্রদায়ের প্রতি। নিশ্চয় তারা নির্দেশ অমান্যকারী লোক’।
এবং নিশ্চয় আমি দাঊদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছি আর তারা উভয়ে বলেছে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাদেরকে তার বহু ঈমানদার বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
এবং সুলায়মান দাঊদের স্থলাভিষিক্ত হলো আর বললো, ‘হে লোকেরা! আমাকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক কিছু থেকে আমাকে দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ’।
এমন কি যখন তারা পিপীলিকাগুলোর উপত্যকায় এসে পৌছলো, তখন একটা পিপীলিকা বললো, হে পিপীলিকাকূল! আপন আপন গৃহে চলে যাও, যাতে তোমাদেরকে পদদলিত না করে সুলায়মান ও তার সৈন্যবাহিনী, অজ্ঞাতসারে।
অতঃপর (সুলায়মান) তার উক্তিতে মৃদু হাসলো এবং আরয করলো, ‘হে আমার রব! আমাকে শক্তি দাও যাতে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি তোমার ওই অনুগ্রহের, যা তুমি আমার উপর এবং আমার মাতা পিতার উপর করেছো; আর যাতে আমি ওই সৎ কাজ করতে পারি, যা তোমার পছন্দ হয় এবং আমাকে আপন করুণাময় ওই বান্দাদের শ্রেণীভুক্ত করো যারা তোমার বিশেষ নৈকট্যের উপযোগী’।
অতঃপর হুদহুদ দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে নি এবং এসে আরয করলো, ‘আমি ওই বিষয়ে দেখে এসেছি, যা হুজুর, (আপনি) দেখেন নি এবং আমি সাবা শহর থেকে হুযূরের নিকট একটা নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।
আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখতে পেলাম যে, তারা আল্লাহ্কে ছেড়ে সূর্যকে সাজদা করছে এবং শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করে তাদেরকে সরল পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে; সুতরাং তারা সৎপথ পাচ্ছে না’।
(ওই নারী) বললো, ‘হে নেতৃবর্গ! আমার এ ব্যাপারে আমাকে (তোমাদের) অভিমত দাও; আমি কোন ব্যাপারে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করি না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমার নিকট উপস্থিত না হও’।
অতঃপর যখন সে সুলায়মানের নিকট এলো, তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করছো? সুতরাং আমাকে আল্লাহ্ যা দিয়েছেন তা উৎকৃষ্টতর সেটা থেকে, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন; বরং তোমরা তোমাদের উপহার নিয়ে খুশী হয়ে থাকো’।
তুমি তাদের প্রতি ফিরে যাও, অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ওই সৈন্যদল নিয়ে আসবো যাদের মোকাবেলা করার ক্ষমতা তাদের থাকবে না এবং অবশ্যই আমরা তাদেরকে ওই শহর থেকে অপদস্থ করে বের করে দেবো। এভাবে যে, তারা অবনমিত হবে।
এক বড় দুষ্ট জিন, বললো, ‘আমি উক্ত সিংহাসন আপনার সম্মুখে উপস্থিত করে দেবো এরই পূর্বে যে, হুযূর সভার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন এবং নিঃসন্দেহে আমি হলাম সেটা করার ক্ষমতাসম্পন্ন, বিশ্বস্ত’।
ওই ব্যক্তি আরয করলো, যার নিকট কিতাবের জ্ঞান ছিলো, ‘আমি সেটা হুযূরের সম্মুখে হাযির করবো চোখের একটা পলক মারার পূর্বেই’। অতঃপর যখন সুলায়মান সিংহাসনটা তার নিকট রক্ষিত অবস্থায় দেখতে পেলো, তখন বললো, ‘এটা আমার রবের অনুগ্রহ থেকে; যাতে আমাকে পরীক্ষা করেন যেন আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, না অকৃতজ্ঞ হই! বস্তুতঃ যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে স্বীয় কল্যাণের জন্যই (কৃতজ্ঞতা প্রকাশ) করে, আর যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তবে আমার রব বে-পরোয়া, সমস্ত প্রশংসার অধিকারী’।
সুলায়মান নির্দেশ দিলো, ‘নারীর সিংহাসনটা তার সামনে আকৃতি বদলিয়ে অপরিচিত করে রেখে দাও, যাতে আমরা দেখি সে সঠিক দিশা পাচ্ছে, না তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, যারা অনবগত’।
তাকে বলা হলো, ‘আঙ্গিনায় প্রবেশ করো’। অতঃপর যখন সে সেটা দেখলো, তখন সে ওটাকে গভীর জলাশয় মনে করলো এবং আপন সাক্বদ্বয় খুললো। সুলায়মান বললেন, ‘এ তো এক মসৃণ আঙ্গিনা, আয়নামণ্ডিত’। নারীটি আরয করলো, ‘হে আমার রব! আমি আমার সত্তার উপর অত্যাচার করেছি এবং এখন সুলায়মানের সাথে আল্লাহ্র নিকট আত্নসমর্পণ করেছি, যিনি সমগ্র জগতের রব।
নিশ্চয় আমি সামূদ সম্প্রদায়ের প্রতি তাদেরই স্বগোত্রীয় লোক সালিহ্ক প্রেরণ করেছি (এ আদেশসহ); ‘তোমরা আল্লাহ্রই ইবাদত করো’। অতঃপর তখন তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে দু’দলে বিভক্ত হয়ে গেলো।
তারা বললো, ‘আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদেরকে’। তিনি বললেন, ‘তোমাদের অমঙ্গলের পূর্বলক্ষণ আল্লাহ্রই ইখ্তিয়ারে; বরং তোমরা ফিতনায় আপতিত হয়ে আছো’।
পরস্পরের মধ্যে আল্লাহ্র নামে শপথ করে বললো, ‘আমরা অবশ্যই অতর্কিতে আক্রমণ করবো রাত্রি বেলায় সালিহ্ ও তার পরিবার পরিজনের উপর। অতঃপর তার উত্তরাধিকারীদেরকে বলবো, ‘এ পরিবার পরিজনকে হত্যা করার সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম না এবং আমরা নিশ্চয় সত্যবাদী’।
না তিনি, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে বারি বর্ষণ করেন? অতঃপর আমি তা থেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত বাগানসমূহ উদগত করেছি; তোমাদের ক্ষমতা ছিলো না সেগুলোর বৃক্ষাদি উদগত করার। আল্লাহ্র সাথে কি অন্য খোদাও আছে? বরং ওই সব লোক সৎপথ থেকে সরে পড়ছে।
না তিনি, যিনি পৃথিবীকে বসবাস করার জন্য তৈরী করেছেন, সেটার মাঝে নদী-নালা প্রবাহিত করেছেন, সেটার জন্য নোঙ্গর সৃষ্টি করেছেন এবং উভয় সমুদ্রের মধ্যে অন্তরাল রেখেছেন? আল্লাহ্র সাথে কি অন্য খোদাও আছে? বরং তাদের মধ্যে অধিকাংশই অজ্ঞ।
না তিনি, যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন যখন তাকে আহ্বান করে এবং দূরীভূত করে দেন বিপদাপদ এবং তোমাদেরকে ভূ-খণ্ডের মালিক করেন? আল্লাহ্র সাথে কি অন্য খোদাও আছে? তোমরা খুব কম মনোযোগই দিচ্ছো।
না তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থল ও জলের পুঞ্জিভূত অন্ধকারে সৎপথ দেখান এবন যিনি বায়ুসমূহ প্রেরণ করেন আপন রহমতের পূর্বে সুসংবাদবাহী রূপে? আল্লাহ্র সাথে কি অন্য খোদাও আছে। আল্লাহ্ বহু ঊর্ধ্বে তাদের শির্ক থেকে।
না তিনি, যিনি সৃষ্টির আরম্ভ করেন, অতঃপর সেটাকে পুনর্বার সৃষ্টি করেবেন? এবং যিনি তোমাদেরকে আসমানসমূহ ও যমীন থেকে জীবিকা প্রদান করেন? আল্লাহ্র সাথে কি অন্য খোদাও আছে? আপনি বলুন, ‘নিজেদের প্রমাণ হাযির করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও!’
এবং যখন বাণী তাদের উপর এসে পড়বে, তখন আমি মাটির গর্ভ থেকে তাদের জন্য এক জীব বের করবো, যা মানুষের সাথে কথা বলবে; এ জন্য যে, লোকেরা আমার নিদর্শনসমূহের উপর ঈমান আনতো না।
এবং যে দিন আমি একত্রিত করবো প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একটা দলকে, যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে; অতঃপর তাদের অগ্রগামীদেরকে বাধা দেওয়া হবে, যাতে পেছনের লোকেরা তাদের সাথে এসে মিলিত হয়;
শেষ পর্যন্ত যখন সবাই সমবেত হয়ে যাবে তখন বলবেন, ‘তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছো, অথচ তোমাদের জ্ঞান সেগুলো পর্যন্ত পৌঁছে নি, অথবা তোমরা কি কাজ করতে?’
তারা কি দেখে নি যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি যেন তারা বিশ্রাম নিতে পারে এবং দিন সৃষ্টি করেছি প্রদর্শনকারীরূপে; নিশ্চয় তাতে অবশ্যই নিদর্শনাদি রয়েছে ওই সব লোকের জন্য যারা ঈমান রাখে।
এবং যে দিন ফুঁৎকার করা হবে শিঙ্গায়, তখন ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে যতকিছু আসমানসমূহে রয়েছে এবং যতকিছু যমীনের মধ্যে রয়েছে,কিন্তু যাকে আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন; আর সবাই তার সম্মুখে হাযির হবে বিনীত অবস্থায়।
এবং তুমি দেখবে পর্বতমালাকে মনে করবে যে, সেগুলো অটল হয়ে আছে এবং সেগুলো চলতে থাকবে মেঘের চলার ন্যায়। এটা আল্লাহ্র কাজ, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে নৈপুণ্য সহকারে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তিনি খবর রাখেন তোমাদের কর্মসমূহের।
আমাকে তো এ-ই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি ইবাদত করি এ শহরের রবের, যিনি সেটাকে সম্মানিত করেছেনে সব সবকিছু তারই। আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত হই।
এবং এরও যেন ক্বোরআন পাঠ করি। সুতরাং যে সঠিক পথ পেয়েছে সে নিজের মঙ্গলের জন্য সৎপথ পেয়েছে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, তবে আপনি বলে দিন, ‘আমি তো এ-ই সতর্ককারী হই’।