তাদের অন্তর খেলাধূলায় পড়ে রয়েছে; এবং যালিমগণ পরস্পরের মধ্যে গোপনে পরামর্শ করেছে, ‘ইনি কে? একজন তোমাদেরই মত মানুষ মাত্র। তোমরা কি দেখেশুনে যাদুর নিকট যাচ্ছো?’
বরং তারা বললো, ‘(এ হচ্ছে) উদ্বেগপূর্ণ স্বপ্নসমূহ; বরং তাঁরই মনগড়া; বরং তিনি একজন কবি। সুতরাং আমাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে আসুক যেমন পূর্ববর্তীগণ প্রেরিত হয়েছিলেন।
অতঃপর আমি তাদেরকে আমার প্রতিশ্রুতি সত্য করে দেখিয়েছি, অতঃপর তাদেরকে উদ্ধার করেছি এবং যাদেরকে ইচ্ছা করেছি তাদেরকেও! আর সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি।
বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর ছুড়ে মারি; ফলে, তা সেটার মস্তিষ্ক বের করে দেয়, অতঃপর তখনি তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং তোমাদের দুর্ভোগ ওই সব উক্তির কারণে যেগুলো তোমরা রচনা করছো।
যদি আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহ্ ব্যতীত আরো খোদা থাকতো, তবে অবশ্যই উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেতো; সুতরাং পবিত্রতা আল্লাহ্ আরশাধিপতির ওই সব উক্তি থেকে যেগুলো এরা রচনা করছে।
তারা কি আল্লাহ্ ব্যতীত আরো খোদা বানিয়ে রেখেছে? আপনি বলুন, ‘নিজেদের প্রমাণ উপস্থিত করো। এ ক্বোরআন আমার সাথে যারা আছে তাদের স্মরণ এবং আমার পূর্ববর্তীদের আলোচনা; বরং তাদের মধ্যে অধিকাংশ সত্যকে জানে না, ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
তিনি জানেন যা তাদের সম্মুখে রয়েছে এবং যা তাদের পেছনে রয়েছে, আর তারা সুপারিশ করে না কিন্তু তাঁরই পক্ষে, যাকে তিনি পছন্দ করেন এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত।
কাফিররা কি এ কথা ভাবে নি যে, আসমান ও যমীন বন্ধ ছিলো, অতঃপর আমি সেগুলোকে খুলেছি এবং আমি প্রত্যেক জীবনবিশিষ্ট বস্তুকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?
এবং কাফিরগণ যখন আপনাকে দেখে তখন আপনাকে সাব্যস্ত করে না, কিন্তু ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্ররূপে। ‘ইনিই কি ওই ব্যক্তি, যিনি তোমাদের উপাস্যগুলোকে মন্দ বলে?’ এবং তারা পরম করুণাময়েরই স্মরণকে অস্বীকার করে।
যদি কাফিরগণ কোনমতে জানতো ওই সময়ের কথা, যখন তারা না তাদের মুখমণ্ডল থেকে আগুনকে প্রতিহত করতে পারবে এবং না নিজেদের পৃষ্ঠগুলো থেকে আর না তাদেরকে সাহায্য করা হবে!
তাদের কি এমন কিছু খোদা রয়েছে, যারা তাদেরকে আমার (পাকড়াও) থেকে রক্ষা করে? সেগুলো নিজেরা নিজেদেরকেও রক্ষা করতে পারে না এবং না আমার নিকট থেকে তাদেরকে কোন সাহায্য করা হবে।
বরং আমি তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষকে ভোগ-সম্ভার প্রদান করেছি, এমন কি তাদের আয়ুষ্কালও দীর্ঘ হয়েছে, তবে কি তারা দেখতে পাচ্ছে না যে, আমি যমীনকে সেটার প্রান্তগুলো থেকে সঙ্কুচিত করে আনছি? তবুও কি এরা বিজয়ী হবে?’
এবং আমি ক্বিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মানদণ্ডসমূহ স্থাপন করবো। সুতরাং কারো আত্নার প্রতি কোন অবিচল করা হবে না। এবং যদি কোন বস্তু তিল-বীজের পরিমাণও হয়, তবে আমি তাও নিয়ে আসবো; আর আমি যথেষ্ট হিসাব গ্রহণে।
এবং আমি তাদেরকে ‘ইমাম’ করেছি, যারা আমার নির্দেশে আহ্বান করে আর আমি তাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছি- সৎকর্ম করতে, নামায প্রতিষ্ঠিত রাখতে এবং যাকাত প্রদান করতে; আর তারা আমার ইবাদত করতো।
আর লূতকে আমি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও জ্ঞান প্রদান করেছি এবং তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছি, যারা অশ্লীল কাজ করতো; নিশ্চয় তারা মন্দলোক, নির্দেশ অমান্যকারী ছিলো।
এবং দাঊদ ও সুলায়মানকে স্মরণ করুন! যখন শস্যক্ষেত্রের এক বিবাদ মীমাংসা করছিলো, যখন রাতের বেলায় তাতে কিছুলোকের মেষসমূহ প্রবেশ করেছিলো এবং আমি তাদের বিচারের সময় উপস্থিত ছিলাম।
আমি ওই বিষয় সুলায়মানকে বুঝিয়ে দিয়েছি এবং উভয়কে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা ও জ্ঞান দান করেছি; আর দাঊদের সাথে পর্বতকে অনুগত ঘোষণা করতো; এবং পক্ষীকুলকেও। আর এসব আমার কাজ ছিলো।
এবং সুলায়মানের জন্য তীব্র বায়ুকে বশীভূত করে দিয়েছি; তা তাঁর নির্দেশে প্রবাহিত হতো ওই ভূমির প্রতি, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি এবং প্রত্যেকটা বিষয় আমার জানা আছে।
অতঃপর আমি তাঁর প্রার্থনা শুনেছি। তখন আমি দূরীভূত করেছি যে দুঃখ-কষ্ট তাঁর ছিলো, এবং আমি তাকে তাঁর পরিজনবর্গ ও তাদের সাথে তদসংখ্যক আরো দান করলাম আমার নিকট থেকে দয়া করে এবং ইবাদতকারীদের জন্য উপদেশ স্বরূপ।
এবং যুন্নূনকে (স্মরণ করুন); যখন ক্রোধভরে চললো, তখন মনে করলো যে, আমি তাঁর উপর প্রতিবন্ধকতা (বিপদ) সৃষ্টি করবো না। অতঃপর অন্ধকাররশির মধ্যে ডাকলো, ‘কোন উপাস্য নেই তুমি ব্যতীত; পবিত্রতা তোমারই, নিশ্চয় আমার দ্বারা অশোভন কাজ সম্পাদিত হয়েছে।
তখন আমি তাঁর প্রার্থনা ক্ববূল করেছি এবং তাকে দান করেছি ইয়াহ্য়াকে এবং তাঁর জন্য তাঁর স্ত্রীকে যোগ্যতাসম্পন্ন করেছি। নিশ্চয় তারা সৎকর্মসমূহে ত্বরা করতো এবং আমাকে ডাকতো আশা ও ভীতির সাথে আর আমার দরবারে বিনীতভাবে প্রার্থনা করতো।
এবং সন্নিকটে এসেছে সত্য প্রতিশ্রুতি; সুতরাং তখনই কাফিরদের চক্ষুগুলো বিস্ফারিত হয়ে থেকে যাবে (আর বলবে,) ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! নিশ্চয় আমরা সে বিষয়ে উদাসীনতাঁর মধ্যে ছিলাম; বরং আমরা যালিম ছিলাম’।
তাদেরকে বিষাদে ফেলবে না ওই সর্বাধিক মহাভীতি এবং ফিরিশ্তাগণ তাদের অভ্যর্থনা করার জন্য আসবে, ‘এটাই হচ্ছে তোমাদের ওই দিন, যার সম্পর্কে তোমাদের সাথে ওয়াদা ছিলো’।
যেদিন আমি আসমানকে গুটিয়ে ফেলবো যেভাবে লেখক ফিরিশ্তাগণ আমলনামাসমূহ গুটায়; যেভাবে আমি সর্বপ্রথম সেটা সৃষ্টি করেছিলাম পুনরায় সেভাবেই করে দেবো। এটাহচ্ছে প্রতিশ্রুতি আমার দায়িত্বে; সেটা আমি অবশ্যই করবো।
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দিন, ‘আমি তোমাদেরকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছি সমানভাবে; এবং আমি কি জানি তা নিকটে, না দূরে, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে?’