ফিরিশ্তাদেরকে ঈমানের প্রাণ অর্থাৎ ওহী নিয়ে স্বীয় যেসব বান্দার উপর চান অবতরণ করেন। সতর্কবাণী শুনাও যে, আমি ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী নেই। সুতরাং আমাকে ভয় করো।
এবং তিনি তোমাদের জন্য অনুগত করেছেন রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র এবং নক্ষররাজিকে, তাঁরই নির্দেশাধীন রয়েছে। নিশ্চয় এ আয়াতের মধ্যে নিদর্শনাদি রয়েছে বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য;
এবং তিনিই হন, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে অধীন করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা মাংস আহার করো, এবং তা থেকে গয়না আহরণ করো, যা তোমরা পরিধান করো; এবং তুমি তাতে দেখতে পাও নৌযানগুলোকে, যেগুলো পানির বুক চিরে চলাচল করে, এবং এজন্য যে, তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করবে আর যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
যেন রোজ-ক্বিয়ামতে নিজেদের বোঝা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে এবং কিছু বোঝা তাদেরও, যাদেরকে নিজ অজ্ঞতা হেতু পথভ্রষ্ট করে। শুনে নাও! ‘তারা কতোই নিকৃষ্ট বোঝা বহন করে!’
নিশ্চয় তাদের পূর্ববর্তীরা প্রতাঁরণা করেছিলো; তখন আল্লাহ্ তাদের দেয়ালগুলোকে ভিত্তি থেকে (অপসারণ করে) নিলেন, তখন উপর থেকে তাদের উপর ছাদ ধ্বসে পড়লো এবং শাস্তি তাদের উপর সেখান থেকেই এলো যেখানকার খবর তাদের ছিলো না।
অতঃপর রোজ-ক্বিয়ামত তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন, ‘কোথায় আমার ওই সব শরীক যাদের সম্বন্ধে তোমরা বাক-বিতণ্ডা করছিলে’? জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্নরা বলবে, ‘আজ সমস্ত লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের উপর’;
ওই সব লোক, যাদের প্রাণ ফিরিশ্তাগণ বের করে নেয় এমতাবস্থায় যে, তারা নিজেদের অমঙ্গল করছিলো। এখন তারা আত্নসমর্পণ করবে (এ বলে) যে, ‘আমরা তো কোন মন্দ কর্ম করতাম না’। হা, কেন নয়, নিশ্চয় আল্লাহ্ সবিশেষ অবহিত সে সম্পর্কে, যা তোমাদের কৃতকর্ম ছিলো।
এবং খোদাভীরুদেরকে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের রব কি অবতীর্ন করেছেন?’ বললো, ‘মহাকল্যাণ’।যারা এ পৃথিবীতে সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে এবং নিশ্চয় পরকালীন আবাস সর্বাধিক উত্তম। আর নিশ্চয় কতই উৎকৃষ্ট আবাস পরহেয্গারদের!
ওই সব লোক, যাদের প্রাণ বের করে ফিরিশ্তাগণ পবিত্র থাকা অবস্থায়, একথা বলতে বলতে যে ‘শান্তি বর্ষিত হোক তোমাদের উপর, জান্নাতে প্রবেশ করো আপন কৃতকর্মের প্রতিদান হিসেবে!’
তারা কিসের প্রতীক্ষায় রয়েছে? কিন্তু এরই যে, ফিরিশ্তাগণ তাদের নিকট আসবে, অথবা আপনার রবের শাস্তি আসবে। তাদের পূর্ববর্তীরা এরূপই করেছে। এবং আল্লাহ্ তাদের উপর কোন যুল্ম করেন নি। হাঁ, তারা নিজেরাই নিজেদের আত্নাগুলোর উপর যুলুম করতো।
এবং মুশরিকরা বললো, ‘আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে পূজা করতাম না; না আমরা, না আমাদের পিতৃপুরুষ এবং না তাঁর থেকে পৃথক হয়ে (আমরা) কোন বস্তুকে হারাম স্থির করতাম’। অনুরূপই তাদের পূর্ববর্তীরা করেছে; সুতরাং রসূলগণের কর্তব্য কি? কিন্তু সুস্পষ্টরূপে পৌছিয়ে দেওয়া।
এবং নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন রসূল প্রেরণ করেছি (একথা বলতে) ‘আল্লাহ্রই ইবাদত করো এবং শয়তান থেকে বাঁচো’। অতঃপর তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ্ পথ প্রদর্শন করেছেন এবং কারো উপর গোমরাহী সঠিকই অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং পৃথিবীতে ঘুরেফিরে দেখো কেমন পরিণতি হয়েছে অস্বীকারকারীদের!
এবং তারা আল্লাহ্র নামে শপথ করেছে আপন শপথের মধ্যে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা সহকারে এ মর্মে যে, আল্লাহ্ মৃতকে উঠাবেন না’। হাঁ, কেন নয়, সত্য প্রতিশ্রুতি তাঁরই দায়িত্বে; কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না;
এবং যারা অত্যাচারিত হয়ে আল্লাহ্র পথে আপন ঘর-বাড়ী ছেড়ে দেয়, অবশ্যই আমি তাদেরকে দুনিয়ার মধ্যে উত্তম আবাস দেবো; এবং নিশ্চয় আখিরাতের সাওয়াব খুব বড়; কোনো প্রকারে লোকেরা জান্তো!
স্পষ্ট নিদর্শন ও কিতাবসমূহ সহকারে। এবং হে মাহবূব! আমি আপনার প্রতি এ স্মৃতি অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি লোকদের নিকট বর্ণনা করেন, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে।
তবে কি যারা মন্দ প্রতাঁরণা করেছে তারা এ থেকে ভয় করছে না যে, আল্লাহ্ তাদেরকে ভূ-গর্ভে ধ্বসিয়ে দেবেন, কিংবা তাদের প্রতি সেখান থেকেই শাস্তি আসবে, যে স্থান থেকে (শাস্তি আসার) তাদের খবরই থাকে না?
এবং তারা জ্ঞানহীন বস্তুসমূহের জন্য আমার প্রদত্ত জীবিকা থেকে অংশ নির্ধারণ করে। আল্লাহ্র শপথ! তোমাদেরকে অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে সে সম্পর্কে, যা কিছু মিথ্যা রচনা করছিলে।
লোকদের নিকট থেকে আত্নগোপন করে বেড়ায় এ সুসংবাদের গ্লানি হেতু; তাকে কি লাঞ্ছনা সহকারে রাখবে কিংবা তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে? ওহে! তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত করে।
এবং যদি আল্লাহ্ মানুষকে তাদের যুল্মের উপর পাকড়াও করতেন, তবে ভূ-পৃষ্ঠে কোন বিচরণকারীকে ছাড়তেন না; কিন্তু তাদেরকে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন তাদের প্রতিশ্রুতি আসবে তখন না এক মুহূর্তকাল পেছনে হটবে, না সম্মুখে বাড়বে।
এবং আল্লাহ্র জন্য তাই স্থির করে যা (তাঁর) নিজেদের জন্য অপছন্দ করে এবং তাদের জিহ্বাগুলো মিথ্যাসমূহ বর্ণনা করে যে, তাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে। তবে একথা নিশ্চিত যে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন, এবং তাদেরকে সীমা থেকে অতিক্রম করানো হবে।
আল্লাহ্র শপথ! আমি আপনার পূর্বে বহু উম্মতের প্রতি রসূল প্রেরণ করেছি; তখন শয়তান তাদের কার্যকলাপকে তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছে; সুতরাং সে-ই আজ তাদের সাথী এবং তাদের জন্য বেদনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
এবং আমি আপনার উপর এ কিতাব অবতীর্ণ করি নি, কিন্তু এজন্য যে, আপনি লোকদের নিকট সুস্পষ্ট করে দেবেন যে কথায় তারা মতভেদ করে এবং হিদায়াত ও দয়া ঈমানদারদের জন্য।
এবং আল্লাহ্ আকাশ থেকে বারি বর্ষন করেন, অতঃপর তা দ্বারা ভূমিকে সেটার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করে দেন। নিশ্চয় তাতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য যারা (সত্য গ্রহণের) কান রাখে।
এবং নিশ্চয় তোমাদের জন চতুষ্পদ প্রাণীগুলোর মধ্যে (গাভীর) দৃষ্টি অর্জিত হবার ক্ষেত্র রয়েছে। আমি তোমাদেরকে সেগুলোর উদরস্থ গোবর ও রক্তের মাঝখান থেকে বিশুদ্ধ দুধ পান করাই, যা পানকারীদের জন্য গলা দিয়ে সহজে নেমে যায়।
অতঃপর প্রত্যেক প্রকারের ফল থেকে কিছু কিছু আহার করো এবং আপন রবের পথসমূহে চলো, যে গুলো তোমার জন্য নরম ও সহজ’। সেটার উদর থেকে এক পানিয় বস্তু রং-বেরং-এর নির্গত হয়, যার মধ্যে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে। নিশ্চয় তাতে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীলদের জন্য।
এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বয়সের দিকে ফেরানো হচ্ছে, যাতে জানার পরে কিছুই না জানে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সবকিছু জানেন। সবকিছু করতে পারেন।
এবং আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে এককে অপরের উপর জীবিকার মধ্যে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতঃপর যাদেরকে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন তারা আপন জীবিকা আপন দাস দাসীদেরকে ফিরিয়ে দেবে না, যাতে তারা সবাই এর মধ্যে সমান হয়ে যায়। তবে কি তারা আল্লাহ্র অনুগ্রহ অস্বীকার করছে?
এবং আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তোমাদের জাতি থেকে নারীদের সৃষ্টি করেন এবং তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের থেকে পুত্র ও পৌত্র-দৌহিত্রাদি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে জীবিকা দান করেছেন। তবুও কি তারা মিথ্যা কথার উপর বিশ্বাস করছে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহ অস্বীকার করছে?
আল্লাহ্ এক উপমা বর্ণনা করেছেন-একজন বান্দা রয়েছে অপর একজনের মালিকানাধীন, নিজে কোন কিছুর ক্ষমতা রাখে না আর একজন সে, যাকে আমি আমার নিকট থেকে উত্তম জীবিকা প্রদান করেছি, তখন সে তা প্রকাশ্যে; তারা কি পরস্পর সমান হয়ে যাবে? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই বরং তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই খবর নেই।
এবং আল্লাহ্ উপমা বর্ণনা করেছেন-দু’জন পুরুষ, তন্মধ্যে একজন মূক, যে কোন কাজ করতে পারে না এবং সে আপন মুনিবের উপর বোঝা স্বরূপ, তাকে যে দিকেই প্রেরণ করুক, কোন মঙ্গল নিয়ে আসে না; সে কি সমান হয়ে যাবে ওই ব্যক্তির, যে ন্যায়ের নির্দেশ দেয় এবং সে সরল পথেই রয়েছে?
এবং আল্লাহ্রই আসমানসমূহ ও যমীনের গোপন বস্তুসমূহ এবং ক্বিয়ামতের ব্যাপার তো কেবল চক্ষুর এক পলক মারার মতোই; বরং তা অপেক্ষাও সত্বর। নিশ্চয় আল্লাহ্ সবকিছু করতে পারেন।
এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে সৃষ্টি করেছেন (এমন অবস্থায়) যে, তোমরা কিছুই জানতে না এবং তোমাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার করো।
তারা কি পাখীগুলো দেখে নি নির্দেশের প্রতি বাধ্য, আসমানের শূন্যগর্ভে? তাদেরকে কেউ স্থির রাখেন না আল্লাহ্ ব্যতীত। নিশ্চয় এর মধ্যে ঈমানদারেদের জন্য নিদর্শনাদি রয়েছে।
এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে বসবাস করার জন্য ঘর দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তুগুলোর চামড়া থেকে কিছু ঘর নির্মাণ করেন, যে গুলো তোমাদের জন্য তোমাদের ভ্রমণের দিনে এবং ভ্রমণপথে গম্যস্থানসমূহে অবস্থান করার দিনে হালকা হয় এবং (দিয়েছেন) সেগুলোর পশম, বাবরি চুল ও লোম থেকে কিছু গৃহ-সামগ্রী এবং ব্যবহারের উপকরণাদি একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত।
এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে স্বীয় সৃষ্ট বস্তুসমূহ থেকে ছায়া প্রদান করেছেন; এবং তোমাদের জন্য পাহাড়সমূহে গোপনে আশ্রয় নেওয়ার স্থান তৈরী করেছেন আর তোমাদের জন্য কিছু পরিধেয় সৃষ্টি করেন, যা তোমাদেরকে তাপ থেকে রক্ষা করে, আর কিছু পরিধেয় বস্ত্র, যা যুদ্ধের মধ্যে তোমাদেরকে রক্ষা করে। এভাবে তিনি আপন অনুগ্রহ তোমাদের উপর পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা নির্দেশ মান্য করো।
এবং মুশরিকরা যখন আপন শরীকদেরকে দেখবে, তখন বলবে, ‘হে আমাদের রব! এ গুলো হচ্ছে আমাদের শরীক, যেগুলোর আমরা আপনাকে ব্যতীত পূজা করতাম। অতঃপর তারা তাদের প্রতি কথা নিক্ষেপ করবে যে, ‘তোমরা নিশ্চয় মিথ্যাবাদী’।
এবং যে দিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সাক্ষী তাদের মধ্য থেকে উঠাবো যে তাদেরই বিরুধে সাক্ষ্য দেবে, এবং হে মাহবূব! আপনাকে তাদের সবার উপর সাক্ষী বানিয়ে উপস্থিত করবো আর আমি আপনার উপর এ ক্বোরআন অবতীর্ণ করেছি, যা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বিবরণ, হিদায়ত, দয়া ও সুসংবাদ মুসলমানদের জন্য।
নিশ্চয় আল্লাহ্ নির্দেশ দেন ন্যায় বিচার পুণ্য ও আত্নীয় স্বজনকে দান করার এবং নিষেধ করেন অশ্লীলতা, মন্দ কথা ও অবাধ্যতা থেকে; তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা ধ্যান করো।
এবং আল্লাহ্র অঙ্গীকার পূরণ করো যখন পরস্পর অঙ্গীকারবদ্ধ হও এবং শপথগুলোকে দৃঢ় করে ভঙ্গ করো না; এবং তোমরা আল্লাহ্কে নিজেদের উপর জামিন করেছো। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের কার্যাদি জানেন।
এবং ওই নারীর মত হায়ো না যে আপন সূতা মজবুত হবার পর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরা করে ছিড়ে ফেলেছে। তোমরা আপন শপথগুলোকে পরস্পরের মধ্যে একটা ভিত্তিহীন অজুহাত বানিয়ে নিয়ে থাকো যাতে একদল অপর দল অপেক্ষা অধিক না হও। আল্লাহ্ তো এটা দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন এবং অবশ্যই ক্বিয়ামত দিবসে তোমাদের সম্মুখে সুস্পষ্ট করে দেবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছিলে।
এবং আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে একই উম্মত (জাতি) করতেন; কিন্তু আল্লাহ্ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান প্রদান করেন; তোমাদেরকে অবশ্যই তোমাদের কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।
এবং নিজেদের শপথগুলোকে পরস্পরের মধ্যে ভিত্তিহীন অজুহাত বানিয়ে নিও না, নিলে কখনো কোন পা স্থির হবার পর তা ফস্কে যাবে এবং আল্লাহ্র পথে তোমাদের বাধা দেওয়ার কারণে তোমরা ক্ষতির আস্বাদ গ্রহণ করবে; এবং তোমাদের জন্য মহাশাস্তি (অবধারিত)।
যা তোমাদের নিকট রয়েছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং যা আল্লাহ্র নিকট আছে তা স্থায়ী হবারই; এবং নিশ্চয় আমি ধৈর্যধারণকারীদেরকে তাদের ওই পুরস্কার দেবো, যা তাদের সর্বাধিক উত্তম কাজের উপযোগী হবে।
যে সৎকর্ম করে-পুরুষ হোক কিংবা নারী এবং হয় মুসলমান, তবে অবশ্যই আমি তাকে উত্তম জীবনে জীবিত রাখবো এবং অবশ্যই তাদেরকে তাদের কর্মের পুরস্কার দেবো, যা তাদের সর্বাপেক্ষা উত্তম কর্মের উপযোগী হয়।
এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত পরিবর্তন করি এবং আল্লাহ্ ভালভাবে জানেন যা তিনি অবতীর্ণ করেন, কাফিররা বলে ‘আপনি তো মন থেকে গড়ে নিয়ে আসছেন; বরং তাদের মধ্যে অধিকাংশের জ্ঞান নেই।
আপনি বলুন, ‘সেটাকে পবিত্রতাঁর আত্না অবতীর্ণ করেছে তোমার রবের নিকট থেকে ঠিক ঠিক, যাতে সেটা দ্বারা ঈমানদারকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠা রাখেন এবং হিদায়ত ও সুসংবাদ মুসলমানদের জন্য।
যে ঈমান এনে আল্লাহ্কে অস্বীকার করে, সে ব্যতীত যাকে বাধ্য করা হয় এবং তাঁর অন্তর ঈমানের উপর অবিচলিত থাকে, হাঁ ওই ব্যক্তি, যে হৃদয়কে উন্মুক্ত করে কাফির হয়, তাদের উপর আল্লাহ্র গযব (আপতিত) হয় এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।
অতঃপর নিশ্চয় আপনার রব তাদেরই জন্য, যারা নির্যাতিত হবার পর আপন ঘর ছেড়েছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং ধৈর্যশীল রয়েছে, নিশ্চয় আপনার রবের পর অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।
এবং আল্লাহ্ দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেছেনঃ একটা জনপদ, যা নিরাপদে ও নিশ্চিন্ত ছিলো; সব দিক থেকে সেটার জীবনোপকরণ প্রচুর পরিমাণে আসতো। অতঃপর তারা আল্লাহ্র অনুগ্রহসমূহের প্রতি অকৃতজ্ঞা প্রকাশ করতে লাগলো। তখন আল্লাহ্ সেটাকে এই শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করালেন যে, তাকে ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক পরালেন- তাদের কৃতকর্মের পরিণাম স্বরূপ।
এবং নিঃসন্দেহে তাদের নিকট তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল তাশরীফ এনেছেন। অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করলো। সুতরাং তাদেরকে শাস্তি গ্রাস করলো এবং তারা অন্যায়কারী ছিলো।
তোমাদের উপর তো এগুলো হারাম করেছেন-মড়া, রক্ত, শূকর-গোশ্ত এবং সেটা, যা যবেহকালে আল্লাহ্র পরিবর্তে অন্য কারো নাম নেওয়া হয়েছে, অতঃপর যে অনন্যোপায় হয়, না অভিলাষী হয়ে এবং না সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
এবং তোমাদের জিহ্বা মিথ্যারোপ করার কারণে, আল্লাহ্র প্রতি মিথ্যা রচনা করার জন্য তোমরা বলোনা, ‘এটা হালাল এবং এটার হারাম’ নিশ্চয় যারা আল্লাহ্র প্রতি মিথ্যা রচনা করে তাদের মঙ্গল হবে না।
এবং বিশেষ করে ইহুদীদের উপর আমি হারাম করেছি ওই সব বস্তু, যা পূর্বে আপনাকে আমি (পড়ে)শুনিয়েছি এবং আমি তাদের উপর যুল্ম করি নি। হাঁ, তারাই তাদের আত্নাসমূহের উপর যুলুম করছিলো।
অতঃপর নিশ্চয় আপনার রব তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশতঃ মন্দ কাজ করে বসেছে; অতঃপর এর পড়ে তাওবা করেছে এবং (নিজেদেরকে) সংশোধন করে নিয়েছে, নিশ্চয় আপনার রব এরপর অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।
শনিবারকে তো তাদের উপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যারা এ সম্বন্ধে মতভেদকারী হয়ে গেছে। এবং নিশ্চয় আপনার রব ক্বিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করতো।
(আপনি) আপন রবের পথের দিকে আহ্বান করুন পরিপক্ক কলা-কৌশল ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে ওই পন্থায় তর্ক করুন, যা সর্বাধিক উত্তম হয়। নিশ্চয় আপনার রব তাকে ভালভাবে জানেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভালভাবে জানেন সৎপথ প্রাপ্তদেরকে।
এবং যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে এমনই শাস্তি দাও যেমন তোমাদেরকে কষ্ট দিয়েছিলো এবং যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তবে নিঃসন্দেহে ধৈর্যশীলদের জন্য ধৈর্য সর্বাধিক উত্তম।
আর হে মাহবূব! আপনি ধৈর্যধারণ করুন এবং আপনার ধৈর্য আল্লাহ্রই সাহায্যক্রমে, আর তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তাদের প্রতাঁরণার কারণে আপনি মনঃক্ষুণ্ণ হবেন না।