যখন সে এক আগুন দেখলো, তখন তাঁর স্ত্রীকে বললো, ‘দাড়াও, এক আগুন আমার নজরে পড়েছে। সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসবো অথবা আগুনের উপর রাস্তা পাবো’।
সুতরাং কখনো তোমাকে যেন সেটা মান্য করা থেকে নিবৃত্ত না করে ওই ব্যক্তি, যে সেটার উপর ঈমান আনে না এবং আপন কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে, সুতরাং নিবৃত্ত হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
যে, ‘তুমি এ শিশুকে সিন্দুকের মধ্যে রেখে সমুদ্রে ভাসিয়ে দাও, অতঃপর সমুদ্র সেটাকে তীরে ঠেলে দিবে, সেটাকে ঊঠিয়ে নেবে ওই ব্যক্তি, যে আমার শত্রু এবং তাঁরও শত্রু, আর আমি তোমার উপর আমার নিকট থেকে ভালবাসা ঢেলে দিয়েছি; এবং এ জন্য যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনেই তৈরী (লালিত-পালিত) হও!
তোমার বোন চললো অতঃপর বললো, ‘আমি কি তোমাদেরকে তাঁরই কথা বলে দেবো, যে এ শিশুর প্রতিপালন করবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছি, যাতে তাঁর চোখ জুড়ায় ও দুঃখ না পায়; এবং তুমি একটা প্রাণ বধ করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া থেকে মুক্তি দিয়েছি এবং তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি; অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদ্য়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, এরপর তুমি এক নির্ধারিত প্রতিশ্রুত সময় উপস্থিত হয়েছো, হে মূসা!
সুতরাং তাঁর নিকট যাও! আর তাকে বলো- আমরা তোমার রবের প্রেরিত হই; সুতরাং আমাদের সাথে ইয়া’ক্বূবের সন্তানদেরকে ছেড়ে দাও; এবং তাদেরকে কষ্ট দিও না। নিশ্চয় আমরা তোমার নিকট তোমার রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি এবং শান্তি তাদেরই প্রতি, যারা হিদায়তের অনুরসরণ করে’।
তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা করেছেন এবং তোমাদের জন্য দিয়েছেন আর আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেছেন’। অতঃপর আমি তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদের জোড়া উৎপন্ন করেছি।
অতঃপর আমরাও অবশ্যই তোমার সামনে অনুরূপ যাদু উপস্থিত করবো। সুতরাং আমাদের মধ্যে ও তোমার মধ্যে একটা প্রতিশ্রুতি স্থির করো, যাকে না আমরা ভঙ্গ করবো, না তুমি; (তা হচ্ছে) সমতল ভূমি (-তে জমায়েত হওয়া)।
তাদেরকে মূসা বললো, ‘তোমাদের ধ্বংস হোক! আল্লাহ্র প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, যাতে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দেন এবং নিশ্চয় ব্যর্থ হয়েই রয়েছে যে মিথ্যা রচনা করেছে’।
এবং নিক্ষেপ করো যা তোমার ডান হাতে রয়েছে এবং তা তাদের কৃত্রিম বস্তুগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা কিছুই তৈরী করে এনেছে তা তো যাদুর প্রতাঁরণা। যাদুকরের মঙ্গল হয় না যেখানেই আসুক’।
ফির’আউন বললো, ‘তোমরা কি আমি অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তাঁর উপর ঈমান এনেছো? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদের সবাইকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। সুতরাং আমি শপথ করছি, অবশ্যই আমি তোমাদের এক পার্শ্বের হাত ও অপর পার্শ্বের পা কর্তন করবো এবং আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডের উপর শূলবিদ্ধ করবোই এবং নিশ্চয় তোমরা জেনে যাবে আমাদের মধ্যে কার শাস্তি কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী’।
তারা বললো, ‘আমরা কখনো তোমাকে প্রাধান্য দেবো না এসব স্পষ্ট প্রমাণাদির ওপর, যেগুলো আমাদের নিকট এসেছে, আমাদের সৃষ্টিকর্তার নামে আমাদে শপথ! সুতরাং তুমি করো যা তোমার করার আছে। তুমি এ পার্থিব জীবনেই তো করবে!
নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং ওই যাদু যা করার জন্য তুমি আমাদেরকে বাধ্য করেছো। এবং আল্লাহ্ শ্রেষ্ঠ আর সর্বাধিক স্থায়ী’।
এবং নিশ্চয় আমি মূসার প্রতি ওহী করেছি, ‘আমার বান্দাদেরকে রাতারাতি নিয়ে চলো। এবং তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্যে শুষ্ক রাস্তা বের করে দাও। তোমার এ ভয় থাকবে না যে, ফির’আউন এসে পেয়ে যাবে এবং না তোমার ভয় থাকবে’।
আহার করো যেসব পবিত্র বস্তু আমি তোমাদেরকে জীবিকা দিয়েছি এবং তাতে সীমালঙ্ঘন করো না! করলে, তোমাদের উপর ক্রোধ অবতীর্ণ হবে; এবং যার উপর আমার ক্রোধ অবতীর্ণ হয়েছে, নিঃসন্দেহে সে পতিত হয়েছে।
অতঃপর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি ফিরে গেলো ক্রোধে ভরা অনুতাপ করতে করতে; বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদেরকে কি তোমাদের রব উত্তম প্রতিশ্রুতি দেন নি? তবে কি তোমাদের উপর প্রতিশ্রুতিকাল সুদীর্ঘ হয়ে অতিবাহিত হয়েছে, না তোমরা চেয়েছিলে যে, তোমাদের উপর তোমাদের রবের ক্রোধ আপতিত হোক, যে কারণে তোমরা আমার (প্রতি প্রদত্ত) অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে?’
তারা বললো, ‘আমরা আপনার অঙ্গীকার স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করি নি; তবে, আমাদের উপর কিছু বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এ সম্প্রদায়ের গয়নার; তখন আমরা সেগুলো নিক্ষেপ করেছি; অতঃপর অনুরূপভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করলো;
অতঃপর সে তাদের জন্য একটি গরু বাছুর গড়ে আনলো, প্রাণহীন দেহ, গাভীর মতো ডাকতো; অতঃপর বললো, ‘এটাই হচ্ছে তোমাদের উপাস্য এবং মূসার উপাস্য; মূসা তো ভুলে গেছে’।
এবং নিশ্চয় তাদেরকে হারূন ইতোপূর্বে বলেছিলো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! এমনি যে, তোমরা এর কারণে পরীক্ষায় পড়েছো! এবং নিঃসন্দেহে তোমাদের রব ‘রাহমান’ (পরম করুণাময়) সুতরাং আমার অনুসরণ করো এবং আমার নির্দেশ মান্য করো।
বললো, ‘হে আমার সহোদর! না আমার দাড়ি ধরো, না আমার মাথার চুল! আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, তুমি বলবে, ‘তুমি বনী ইস্রাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও তুমি আমার কথার অপেক্ষা করলে না’।
সে বললো, ‘আমি তাই দেখেছি যা লোকেরা দেখে নি; অতঃপর আমি এক মুষ্টি ভরে নিলাম ফিরিশ্তার পদচিহ্ন থেকে। অতঃপর তা নিক্ষেপ করলাম। এবং আমার মনে এটাই ভাল লেগেছে’।
বললো, ‘দূর হও! পার্থিব জীবনে তোমার শাস্তি এই যে, তুমি বলবে, ‘স্পর্শ করে যেও না!’ এবং নিঃসন্দেহে তোমার জন্য একটা প্রতিশ্রুত কাল রয়েছে, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবে না; আর তোমার ওই উপাস্যের প্রতি লক্ষ্য করো, যার সামনে তুমি দিনভর আসন পেতে বসেছিলে। শপথ রইলো যে, অবশ্যই আমরা সেটাকা জ্বালিয়ে দেবো, অতঃপর টুকরো টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেবো।
সেদিন (তারা) আহ্বানকারীর পেছনে দৌড়াবে, তাঁর মধ্যে বক্রতা থাকবে না এবং সকল শব্দ পরম করুণাময়ের সামনে নিচু হয়ে থেকে যাবে; সুতরাং তুমি শুনতে পাবে না, কিন্তু অত্যন্ত মৃদু শব্দ।
আর এভাবেই আমি সেটাকে আরবী ক্বোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং তাতে বিভিন্নভাবে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যাতে তারা ভয় করে কিংবা তাদের অন্তরে কিছু চিন্তা ভাবনা সৃষ্টি করে।
অতঃপর সর্বাধিক মহান হন আল্লাহ্, সত্য বাদশাহ। আর, ক্বোরআনে ত্বরা করবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ওহী আপনার প্রতি সম্পূর্ণ না হয় এবং আরয করুন, ‘হে আমার রব ! আমাকে জ্ঞান বেশি দাও’।
(অতঃপর) আমি বললাম ‘হে আদম! নিশ্চয় এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং এমন যেন না হয় যে, সে তোমাদের দু’জনকে জান্নাত থেকে বের করে দেবে, অতঃপর তুমি কষ্টে পড়বে’।
অতঃপর তারা দু’জন তা থেকে ভক্ষণ করলো, লজ্জার বস্তুসমূহ প্রকাশ হয়ে পড়লো। আর জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগলো এবং আদম থেকে আপন রবের নির্দেশের ক্ষেত্রে পদস্থুলন ঘটলো; তখন যে উদ্দেশ্য চেয়েছিলো সেটার পথ পায় নি।
(তিনি) বললেন, ‘তোমরা উভয়ে এক সাথে জান্নাত থেকে নেমে যাও! তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যদি তোমাদের সবার নিকট আমার পক্ষ থেকে সৎপথের নির্দেশ আসে, তবে যে আমার হিদায়তের অনুসারী হয় সে না বিপথগামী হবে, না হতভাগ্য।
আর আমি এভাবেই প্রতিফল দিই তাকে, যে সীমাতিক্রম করেছে এবং আপন রবের নিদর্শনসমূহের উপর ঈমান আনে নি; এবং নিঃসন্দেহে পরকালের শাস্তি সর্বাপেক্ষা কঠিন এবং সর্বাধিক স্থায়ী।
তবে কি তাদের এটা থেকে সৎপথ পাওয়া গেলো না যে, আমি তাদের পূর্বে কতো জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যাদের বসবাসের স্থানে এরা বিচরণ করছে? নিঃসন্দেহে তাতে নিদর্শনসমূহ রয়েছে বিবেকবানদের জন্য।
সুতরাং আপনি ওই সব লোকের কথার উপর ধৈর্যধারণ করুন এবং আপন রবের প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং তা অস্তমিত হবার পূর্বে; আর রাতের মুহূর্তগুলোতে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং দিনের প্রান্তগুলোতে, এ আশায় যে, আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
এবং হে শ্রোতা! তোমার চক্ষুদ্বয় কখনো প্রসারিত করো না সেটার দিকে, যা আমি কাফিরদের জোড়াগুলোকে ভোগ করার জন্য দিয়েছি পার্থিব জীবনের সজীবতা স্বরূপ; এজন্য যে, আমি তাদেরকে এরই কারণে পরীক্ষায় ফেলবো এবং তোমার রবের রিয্ক্ব সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সর্বাধিক স্থায়ী।
এবং আপন পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও এবং নিজেও সেটার উপর অবিচল থাকো। আমি তোমার নিকট কোন জীবিকা চাই না; আমি তোমাকে জীবিকা দেবো; এবং শুভ পরিণাম খোদা ভীরুতার জন্য।
এবং যদি আমি তাদেরকে কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দিতাম রসূল আসার পূর্বে, তবে তারা অবশ্যই বলতো, ‘হে আমাদের রব! তুমি আমাদের প্রতি কোন রসূল কেন প্রেরণ করো নি, যাতে আমরা চলতাম লাঞ্ছিত ও অমানিত হওয়ার পূর্বে।