অতঃপর আমি উক্ত পানির ফোটাকে রক্ত-পিণ্ডে পরিণত করেছি; অতঃপর ওই রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি; অতঃপর মাংসপিণ্ডকে অস্থিতে পরিণত করেছি; অতঃপর উক্ত অস্থিগুলোর উপর মাংস পরিয়েছি; তারপর সেটাকে অন্য আকৃতিতে গড়ে তুলেছি; অতএব, মহা মঙ্গলময় হন আল্লাহ্, সর্বোত্তম স্রষ্টা।
এবং নিশ্চয় তোমাদের জন্য চতুষ্পদ পশুগুলোর মধ্যে উপলব্ধি করার ক্ষেত্র রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তা থেকেই, যা সেগুলোর উদরে রয়েছে এবং তোমাদের জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে, আর সেগুলোর থেকে তোমাদের খোরাক রয়েছে,
নিশ্চয় আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করেছি; সুতরাং সে বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র ইবাদত করো! তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন খোদা নেই। তবে কি তোমাদের ভয় নেই?’
অতঃপর তাঁর সম্প্রদায়ের যে সব সরদার কুফর করেছে তারা বললো, ‘এ’তো নয়, কিন্তু তোমাদের মতো মানুষ, তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠ হতে চায়, আর আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে ফিরিশ্তা অবতাঁরণ করতেন, আমরা তো এ কথা পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষের মধ্যে শুনিনি।
অতঃপর আমি তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করেছি, ‘আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে কিশতী তৈরী করো; অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসবে এবং উনুন উথলে উঠবে তখন তাতে তুলে নিও প্রত্যেক জোড়া থেকে দু’টি করে এবং নিজ পরিবার-পরিজনকে; তাদের মধ্য থেকে ওই সব লোক ব্যতীত, যাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত পূর্বেই হয়ে গেছে; এবং ওই সব যালিমের ব্যাপারে আমাকে কোন কথাই বলবে না; এদেরকে অবশ্যই নিমজ্জিত করা হবে।
এবং বললো ওই সম্প্রদায়ের সর্দারগণ, যারা কুফর করেছে ও আখিরাতে হাযির হওয়াকে অস্বীকার করেছে এবং আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে আরাম দিয়েছি, ‘এতো নয়, কিন্তু তোমাদের মতো মানুষ; তোমরা যা আহার করো তা থেকেই আহার করে এবং যা তোমরা পান করো, তা থেকেই পান করে;
অতঃপর আমি আপন রসূল প্রেরণ করেছি একের পর এক। যখন কোন উম্মতের নিকট তাঁর রসূল এসেছেন তখন তারা তাকে অস্বীকার করেছে; অতঃপর আমি পূর্ববর্তীদের সাথে পরবর্তীদেরকে মিলিয়ে দিয়েছি এবং তাদেরকে কাহিনীতে পরিণত করে দিয়েছি; সুতরাংওই সব লোক, যারা ঈমান আনে না!
এবং যদি সত্য তাদের কামনা বাসনার অনুগামী হতো, তবে অবশ্যই আসমান ও যমীন এবং যা কিছু সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতো; বরং আমি তো তাদের নিকট এমন জিনিষ এনেছি যাতে তাদের খ্যাতি ছিলো। অতঃপর তারা নিজেদের সম্মান থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।
আল্লাহ্ কোন সন্তান গ্রহণ করেন নি এবং না তাঁর সাথে অন্য কোন খোদা আছে। যদি তেমন হতো, তবে প্রত্যেক খোদা আপন সৃষ্টি নিয়ে যেতো এবং অবশ্যই একে অপরের উপর আপন প্রাধান্য বিস্তার করতে চাইতো। পবিত্রতা আল্লাহ্রই ওই সব কথা থেকে যেগুলো এরা রচনা করছে;
হয় তো আমি তখন কিছু পুণ্য অর্জন করবো তাতেই, যা আমি ছেড়ে এসেছি’। নিশ্চয় এটা তো একটা উক্তি মাত্র, যা সে আপন মুখে বলছে; আর তাদের সম্মুখে একটা আড়াল রয়েছে ওই দিন পর্যন্ত, যে দিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে একটা দল বলতো, ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করো এবং আমাদের উপর দয়া করো। আর তুমি সর্বাপেক্ষা অধিক দয়ালু।
‘অতঃপর তোমরা তাদেরকে হাস্যস্পদ করে নিয়েছো, শেষ পর্যন্ত তাদেরকে হাস্যস্পদ করার ব্যস্ততাঁর মধ্যে আমার স্মরণকেও ভুলে গিয়েছো; এবং তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতে’।
এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন খোদার উপাসনা করে, যে বিষয়ে তাঁর নিকট কোন সনদ নেই, তবে তাঁর হিসাব তাঁর রবের নিকট রয়েছে। নিঃসন্দেহে, কাফিরদের কোন রেহাই নি।