এবং এও যে, আপন রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তার প্রতি তাওবা করো। তিনি তোমাদেরকে অতি উত্তম সামগ্রী উপভোগ করতে দেবেন একটা নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত; এবং প্রত্যেক মর্যাদাবানের নিকট তার অনুগ্রহ পৌছাবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্য মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করছি।
শুনো! তারা আপন বক্ষকে দ্বিভাজ করে (এ জন্য যে) আল্লাহ্র নিকট গোপন করবে। শুনো! যখন তারা আপন বস্ত্র দ্বারা সমগ্র শরীর আচ্ছাদিত করে নেয়, তখনও আল্লাহ্ তাদের গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জানেন। নিশ্চয়, তিনি অন্তরসমূহের কথা সম্পর্কে জ্ঞাত।
এবং ভূ-পৃষ্ঠে এমন কোন বিচরণকারী নেই, যার জীবিকা আল্লাহ্র করুণার দায়িত্বে নয়; এবং তিনি জানেন যে, সে কোথায় অবস্থান করবে এবং (তাকে) কোথায় সোপর্দ করা হবে; সব কিছু একটা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী কিতাবের মধ্যে রয়েছে।
এবং তিনিই হন, যিনি আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তার আরশ পানির উপর ছিলো, এ জন্য যে, তোমাদেরকে পরীক্ষা করবেন তোমাদের মধ্যে কার কর্ম ভালো; এবং যদি আপনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে তোমরা মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে’, তবে কাফিরগণ অবশ্যই বলবে যে, এটা তো নয়, কিন্তু সুস্পষ্ট যাদু।
এবং যদি আমি তাদের থেকে শাস্তিকে কিছু নির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দিই তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘কোন বস্তু বাধা দিয়েছে?’ শুনে নাও! যেদিন তাদের নিকট আসবে সেদিন (তা) তাদের নিকট থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না এবং তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে ওই শাস্তি, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো।
এবং যদি আমি তাকে নি’মাতের আস্বাদ প্রদান করি ওই মুসীবতের পর, যা তাকে স্পর্শ করেছে, তবে সে অবশ্যই বলবে, ‘বিপদসমূহ আমার নিকট থেকে কেটে গেছে; নিশ্চয়ই সে উৎফুল্ল, অহঙ্কারী।
তবে কি আপনার প্রতি যে ওহী আসে তা থেকে আপনি কিছু বর্জন করবেন এবং এতে কি মন সংকুচিত হবে, এতদ্ভিত্তিতে যে, তারা বলে, ‘তার সাথে কোন ধন-ভাণ্ডার কেন অবতীর্ণ হয় নি অথবা তার সাথে কোন ফিরিশ্তা কেন আসে নি?’ নিশ্চয় আপনি তো সতর্ককারী আর আল্লাহ্ প্রত্যেক বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।
তারা কি এ কথা বলে, ‘তিনি তা নিজের মন থেকে রচনা করেছেন?’ আপনি বলুন, ‘তোমরা এর অনুরূপ স্বরচিত দশটা সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ্ ব্যতীত যাদের পাওয়া যায় সবাইকে ডেকে নাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
তবে, হে মুসলমানগণ! যদি তারা তোমাদের এ আহ্বানে সাড়া দিতে না পারে, তবে বুঝে নাও যে, তা আল্লাহ্রই জ্ঞান দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে এবং এও যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই। তবে কি এখন তোমরা মেনে নেবে?
তবে কি (সে ওই ব্যক্তির সমতুল্য,) যে আপন রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তার নিকট আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সাক্ষী আসে এবং তার পূর্বে মূসার কিতাব পরিচালক ও অনুগ্রহ (হিসেবে ছিলো)? তারা সেটার উপর ঈমান আনে। আর সব দলে মধ্যে যে ব্যক্তি সেটা অস্বীকার করে তবে আগুনই তার প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং, হে শ্রোতা! তুমি তাঁতে সন্দিগ্ধ হয়ো না। নিশ্চয় তা সত্য, তোমার রবের পক্ষ থেকে। কিন্তু অনেক মানুষ ঈমান রাখে না।
এবং তার চেয়ে অধিক যালিম কে, যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে? তাদেরকে আপন রবের সম্মুখে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীগণ বলবে, ‘এরাই হচ্ছে যারা আপন রব সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করেছিলো। ওহে! যালিমদের উপর আল্লাহ্র লা’নত;
তারা পৃথিবীতে (আল্লাহ্কে) ঠেকাতে পারে এমন নয় এবং না তাদের জন্য আল্লাহ্ থেকে পৃথক কোন সাহায্যকারী আছে। তাদের শাস্তির উপর শাস্তি হবে। না তারা শুনতে পারতো এবং না দেখতে পেতো।
সুতরাং তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা, যারা কাফির ছিলো, বললো, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদেরই মতো মানুষ দেখছি, এবং আমরা দেখছি না যে, তোমার অনুসরণ কেউ করেছে, কিন্তু আমাদের হীন লোকেরাই, অগভীর দৃষ্টিতে; এবং আমরা তোমাদের মধ্যে আমাদের উপর কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাচ্ছি না, বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি’।
বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! হাঁ বলো তো, যদি আমি আপন রবের নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হই এবং তিনি আমাকে তার নিকট থেকে অনুগ্রহ দান করে থাকেন, অতঃপর তোমরা সে বিষয়ে অন্ধ হয়ে থাকো, আমরা কি সেটাকে তোমাদের গলায় বেধে দেবো আর তোমরা হও অসন্তুষ্ট?’
এবং হে সম্প্রদায়! আমি তোমাদের নিকট এর পরিবর্তে কোন ধন-সম্পদ চাই না; আমার প্রতিদান তো আল্লাহ্রই নিকট রয়েছে এবং আমি মুসলমানদেরকে বিতাড়নকারী নই; নিশ্চয় তারা আপন রবের সাথে সাক্ষাতকারী, কিন্তু আমি তোমাদেরকে নিরেট মূর্খলোকরূপেই পাচ্ছি।
এবং আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহ্ ধন-ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে; এবং না এও যে, আমি অদৃশ্য জেনে নেই, আর এ কথাও বলি না যে, আমি ফিরিশ্তা হই এবং আমি তাদেরকে একথা বলি না যাদেরকে তোমাদের দৃষ্টি হীন মনে করে, ‘আল্লাহ্ কখনো তাদেরকে কোন মঙ্গল দেবেন না’। আল্লাহ্ ভালোভাবে জানেন যা কিছু তাদের অন্তরে রয়েছে। এমন করলে অবশ্যই আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবো’।
(তারা) বললো, ‘হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে ঝগড়া করেছো এবং অতিমাত্রায় ঝগড়া করেছো; সুতরাং তা নিয়ে এসো যেটার প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিচ্ছো, যদি তুমি সত্যবাদী হও’।
এবং তোমাদেরকে আমার উপদেশ উপকার দেবে না যদি আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করি, যখন আল্লাহ্ তোমাদের পথভ্রষ্টতা চান। তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তারই দিকে প্রত্যাবর্তন করানো হবে’।
তারা কি বলে, ‘তিনি সেটা মনগড়াভাবে রচনা করে নিয়েছেন?’ আপনি বলুন, ‘যদি আমি তা রচনা করে থাকি, তবে আমার পাপ আমার উপরই বর্তাবে এবং আমি হলাম তোমাদের পাপ থেকে পৃথক’।
এবং নূহের প্রতি ওহী হয়েছে, ‘তোমার সম্প্রদায় থেকে যত সংখ্যক লোক ঈমান এনেছে তারা ছাড়া অন্য কোন মুসলমান হবে না। সুতরাং তুমি তজ্জন্য দুঃখ করো না, যা তারা করছে।
এবং নূহ কিশ্তী তৈরী করেছেন; আর যখন তার সম্প্রদায় প্রধানরা তার নিকট দিয়ে যেতো, তখন তা নিয়ে উপহাস করতো; বললো, ‘যদি তোমরা আমাদেরকে উপহাস করো, তবে আমরাও এক সময় তোমাদেরকে উপহাস করবো, যেমন তোমরা উপহাস করছো।
অবশেষে, যখন আমার আদেশ এলো এবং উনান উথলে উঠলো, আমি বললাম, ‘কিশ্তীতে উঠিয়ে নাও প্রত্যেক শ্রেণী থেকে এক জোড়া করে নর ও মাদী এবং যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তারা ব্যতীত আপন পরিবার পরিজনকে ও অবশিষ্ট মুসলমানদেরকে; এবং তার সাথে মুসলমান ছিলো না, কিন্তু অল্প সংখ্যক লোক।
‘এবং সেটা তাদেরকে পাহাড়সম তরঙ্গগুলোর মধ্যে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো এবং নূহ আপন পুত্রকে আহ্বান করে বললো, অথচ সে তার নিকট থেকে পৃথক ছিলো, ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে আরোহণ করো এবং কাফিরদের সঙ্গী হয়ো না’।
সে বললো, ‘এখনই আমি কোন পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছি। তা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে’। বললো, ‘আজ আল্লাহ্র শাস্তি থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, কিন্তু যার উপর তিনি দয়া করবেন’। এবং তাদের মধ্যখানে তরঙ্গ আড়াল হলো। অতঃপর সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো।
এবং নির্দেশ দেয়া হলো, ‘হে যমীন, তুমি তোমার পানি গ্রাস করে নাও এবং হে আসমান, থেমে যাও!’ এবং পানি শুকিয়ে দেওয়া হলো। আর কার্য সমাপ্ত হলো এবং কিশ্তী জুদী-পর্বতের উপর থেমে গেলো। আর বলা হলো, ‘দূর হোক! ইন্সাফহীন লোকেরা’।
এবং নূহ আপন রবকে আহ্বান করলো। আরয করলো, ‘হে আমার রব! আমার পুত্রও তো আমার পরিবারভুক্ত এবং নিঃসন্দেহে তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য আর তুমি সবচেয়ে বড় নির্দেশদাতা’।
এরশাদ করলেন, ‘হে নূহ! সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়, নিঃসন্দেহে, তার কর্ম বড়ই অনুপযুক্ত। সুতরাং তুমি আমার নিকট ওই বিষয়ে প্রার্থনা করো না যা সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যেন অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও’।
আরয করলো, ‘হে আমার রব! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার নিকট ওই বস্তুর জন্য প্রার্থনা করা থেকে, যে সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই এবং তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না করো ও দয়া না করো, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবো’।
বলা হলো, ‘হে নূহ! কিশ্তী থেকে অবতারণ করো।! আমার পক্ষ থেকে শান্তি এবং বরকতগুলোর সাথে, যেগুলো তোমার উপর রয়েছে এবং তোমার সঙ্গেকার কিছু সম্প্রদায়ের উপর। আর এমন কিছু সম্প্রদায় আছে, যাদেরকে আমি দুনিয়া উপভোগ করতে দেবো। অতঃপর তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে বেদনাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।
এ সমস্ত অদৃশ্যের সংবাদ আমি আপনার প্রতি ওহী করছি। সেগুলো না আপনি জানতেন, না আপনার সম্প্রদায়, এর পূর্বে; সুতরাং ধৈর্যধারণ করুন! নিঃসন্দেহে, শুভ-পরিণাম পরহেয্গারদের জন্য।
এবং ‘আদ-সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের স্বীয় সম্প্রদায়ের লোক হূদকে (নবী করে পাঠিয়েছি)।বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন মা’বূদ নেই। তোমরা নিরেট মিথ্যা রচনাকারী।
হে সম্প্রদায়! আমি এর পরিবর্তে তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাচ্ছি না। আমার প্রতিদান নিরেট তারই (বদান্যতার) দায়িত্বে রয়েছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবুও কি তোমাদের বোধশক্তি নেই?
এবং হে আমার সম্প্রদায়! (তোমরা) আপন রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তার দিকে ফিরে এসো। (তিনি) তোমাদের প্রতি মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের মধ্যে যে পরিমাণ শক্তি আছে তা অপেক্ষা আরো অধিক দেবেন। আর অপরাধ করে মুখ ফিরিয়ে নিও না’।
আমি আল্লাহ্র উপর ভরসা করেছি, যিনি আমার রব এবং তোমাদের রব। এমন কোন বিচরণকারী নেই যার কপালের কেশগুচ্ছ (ঝুঁটি) তার কুদরতের আয়ত্বে নেই। নিশ্চয় আমার রবকে সরল পথে পাওয়া যায়।
অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আমি তোমাদের নিকট পৌছিয়েছি যা নিয়ে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি; এবং আমার রব তোমাদের স্থলে অন্যান্যদেরকে নিয়ে আসবেন; আর তোমরা তার কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। নিশ্চয় আমার রব সমস্ত কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী’।
এবং অভিসম্পাত তাদের পেছনে পড়েছে এ দুনিয়া ও ক্বিয়ামতের দিনে। শুনে নাও! নিশ্চয় ‘আদ-সম্প্রদায় আপন রবকে অস্বীকার করেছে। ওহে, দূর হোক ‘আদ’, হূদের সম্প্রদায়!
এবং সামূদ সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের স্বগোত্রীয় সালিহ্কে (পাঠিয়েছি)। বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি তোমাদেরকে যমীন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সেটাতে তোমাদের বসতি করিয়েছেন। সুতরাং তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। নিশ্চয় আমার রব নিকটে, প্রার্থনা শ্রবণকারী’।
(তারা) বললো, ‘হে সালিহ! এর পূর্বে তো তুমি আমাদের মধ্যে আশাপ্রদ মনে করা হচ্ছিলে! তুমি কি আমাদেরকে আমাদের পিতৃপুরুষদের উপাস্যগুলোর পূজা করতে বাধা দিচ্ছো? নিঃসন্দেহে, যে বিষয়ের দিকে আমাদেরকে আহ্বান করছো, আমরা তা দ্বারা এক মহা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে আছি।
বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! হ্যাঁ, বলো তো, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তার নিকট থেকে অনুগ্রহ দান করেন, তবে আমাকে আল্লাহ্ থেকে কে রক্ষা করবে যদি আমি তার অবাধ্যতা করি? সুতরাং তোমরা ক্ষতি ব্যতীত আমার অন্য কিছু বৃদ্ধি করবে না’।
এবং হে আমার সম্প্রদায়! এটা আল্লাহ্র উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য নিদর্শন। সুতরাং ওটা ছেড়ে দাও যাতে আল্লাহ্র জমিতে চরে এবং সেটার গায়ে মন্দভাবে হাত লাগিয়ো না যেন তোমাদের উপর আশু শাস্তি আপতিত হয়’।
অতঃপর যখন আমার নির্দেশ এলো, তখন আমি সালিহ ও তার সঙ্গেকার মুসলমানদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা করেছি এবং ওই দিনের লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয় তোমাদের রব সর্বশক্তিমান, মর্যাদাবান।
এবং নিশ্চয় আমার ফিরিশ্তারা ইব্রাহীমের নিকট সুসংবাদ নিয়ে এলো। তারা বললো। ‘সালাম’। সে বললো, ‘সালাম’। অতঃপর অল্পক্ষণও বিলম্ব করে নি, একটা ভাজা করা গো-বৎস নিয়ে এলো।
অতঃপর যখন দেখলো যে, তাদের হাত খাদ্যের দিকে প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তাদেরকে আগন্তুক মনে করলো এবং মনে মনে তাদেরকে ভয় করতে লাগলো। তারা বললো, ‘ভয় করবেন না! আমরা লূতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
ফিরিশ্তাগণ বললো, ‘আল্লাহ্র কাজে কি তুমি বিস্ময় বোধ করছো? আল্লাহ্র রহমত ও তার বরকতসমূহ তোমাদের প্রতি রয়েছে, হে এ পরিবারবর্গ! নিঃসন্দেহে, তিনিই সমস্ত প্রশংসার মালিক, সম্মানের অধিকারী’।
এবং তার নিকট তার সম্প্রদায় ছুটে আসলো এবং তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই মন্দ কাজের অভ্যাস স্থান পেয়েছিলো। বললো, হে আমার সম্প্রদায়! এ গুলো হচ্ছে আমার সম্প্রদায়ের কন্যা। এরা তোমাদের জন্য পবিত্র। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো এবং আমাকে আমার মেহমানদের মধ্যে লজ্জিত করো না! তোমাদের মধ্যে কি একজন লোকও সচ্চরিত্রবান নেই?’
ফিরিশ্তারা বললো, ‘হে লূত! আমরা আপনার রবের প্রেরিত। তারা আপনার নিকট পৌছতে পারবে না। সুতরাং আপনি আপনার পরিবারবর্গকে নিয়ে রাতারাতি বের হয়ে পড়ুন এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেনো পেছন দিকে ফিরে না তাকায়; আপনার স্ত্রী ব্যতীত। তাকেও তাই স্পর্শ করবে যা তাদেরকে স্পর্শ করবে। নিশ্চয় তাদের প্রতিশ্রুত সময় হচ্ছে প্রভাতকাল। প্রভাত কি নিকটবর্তী নয়?’
এবং মাদ্য়ানবাসীদের প্রতি তাদের স্বগোত্রীয় ও শু’আয়বকে (পাঠিয়েছি)। বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই এবং মাপে ও ওজনে কম করো না; নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থাসম্পন্ন দেখছি এবং আমি তোমাদের সর্বগ্রাসী দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।
(তারা) বললো, ‘হে শু’আয়ব! তোমার নামায কি তোমাকে এ নির্দেশ দিচ্ছে যে, আমরা আমাদের পিতৃ-পুরুষদের খোদাগুলোকে বর্জন করবো অথবা স্বীয় ধন সম্পদের ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা তা করবো না? হাঁ -জ্বী! তুমি তো বড়ই বুদ্ধিমান, সদাচারী’।
বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! হ্যাঁ, বলো তো! যদি আমি আমার রবের নিকট থেকে একটি স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হই এবং তিনি আমাকে তার নিকট থেকে উৎকৃষ্ট জীবিকা দিয়ে থাকেন; এবং আমি চাই না যে, যা আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি নিজেই সেটার বরখেলাফ করতে থাকবো। আমি তো যথাসম্ভব সংশোধনই করতে চাই এবং আমার সামর্থ্য আল্লাহ্রই নিকট থেকে। আমি তারই উপর নির্ভর করেছি এবং তারই অভিমুখী হচ্ছি।
এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমার সাথে বিরোধ যেন তোমাদেরকে এমন অপরাধ না করিয়ে বসে, যাতে তোমাদের উপর আপতিত হয় যা আপতিত হয়েছিলো নূহ এর সম্প্রদায় অথবা হূদ এর সম্প্রদায় কিংবা সালিহ এর সম্প্রদায়ের উপর; এবং লূত এর সম্প্রদায় তো তোমাদের থেকে মোটেই দূরে নয়;
(তারা) বললো, ‘হে শু’আয়ব! তোমার অনেক কথা আমাদের বুঝে আসে না এবং নিঃসন্দেহে আমরা তোমাকে আমাদের মধ্যে দুর্বল দেখছি। আর যদি তোমার স্বজনবর্গ না থাকতো তবে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে থাকতাম। এবং আমাদের দৃষ্টিতে তোমার কোন মর্যাদা নেই।
বললো, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের উপর আমার স্বজনদের প্রভাব কি আল্লাহ্ অপেক্ষাও বেশি? এবং তোমরা তাকে তোমাদের পৃষ্ঠ-পশ্চাতে ফেলে রেখেছো। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু করছো সব আমার রবের ক্ষমাতধীন রয়েছে।
এবং হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব স্থানে আপন আপন কাজ করতে থাকো। আমি আমার কাজ করছি। শিগ্গির জানতে পারবে কার উপর আসছে ওই শাস্তি, যা তাকে লাঞ্ছিত করবে আর কে মিথ্যাবাদী। এবং অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রয়েছি।
এবং যখন আমার নির্দেশ এলো তখন আমি শু’আয়ব এবং তার সঙ্গেকার মুসলমানদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ করে রক্ষা করেছি এবং যালিমদেরকে ভয়ানক বিকট শব্দ পেয়ে বসেছে। ফলে তারা ভোর বেলায় নিজ নিজ ঘরে হাটুর উপর ভয় করে পড়ে রইলো;
এবং আমি তাদের প্রতি যুল্ম করি নি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুল্ম করেছে। অতঃপর তাদের উপাস্যগুলো, যে গুলোকে তারা আল্লাহ্ ব্যতীত পূজা করতো, তাদের কোন কাজে আসে নি যখন আপনার রবের নির্দেশ আসলো; আর ওইগুলোর কারণে তাদের ধ্বংস ব্যতীত অন্য কিছু বৃদ্ধি পায় নি।
এবং ওই সব লোক, যারা ভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতের মধ্যে থাকবে, সর্বদা সেখানে থাকবে যতদিন পর্যন্ত আসমান ও যমীন থাকবে; কিন্তু যতটুকু আপনার রব ইচ্ছা করেন। এটা এমন এক দান, যা কখনো শেষ হবে না।
সুতরাং, হে শ্রোতা! ধোকায় পড়ো না তা দ্বারা, যার এ কাফিরগণ পূজা করছে; এরা তেমনি পূজা করে যেমন পূর্বে তাদের পিতৃপুরুষরা পূজা করতো। আর নিশ্চয় আমি তাদের অংশ তাদেরকে পুরোপুরিভাবেই দেবো, যাতে কম করা হবে না।
এবং নিশ্চয় আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। অতঃপর তাঁতে মতবিরোধ ঘটেছে। যদি আপনার রবের একটা সিদ্ধান্ত পূর্বে না নেওয়া হতো, তবে তখনই তাদের মীমাংসা করে দেয়া হতো আর নিশ্চয় তারা সেটার দিক থেকে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছে।
সুতরাং স্থির থাকুন যেমন আপনাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে; এবং যে আপনার সাথে প্রত্যাবর্তন করেছে (তারাও স্থির থাকুক) এবং হে লোকেরা! অবাধ্যতা প্রদর্শন করো না। নিশ্চয় তিনি তোমাদের কাজ দেখছেন।
সুতরাং কেন হয় নি তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এমন সব লোক, যাদের মধ্যে মঙ্গলের কিছু অংশ লেগেই থাকতো, যারা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ ছড়াতে বাধা দিতো? হ্যাঁ, তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক ছিলো তারাই, যাদেরকে আমি রক্ষা করেছি। এবং যালিমগণ ভোগ-বিলাসের পেছনে পড়ে রইলো যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছে এবং তারা পাপী ছিলো।
কিন্তু যাদের উপর আপনার রব দয়া করেছেন এবং মানুষকে এ জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এবং আপনার রবের এ’কথা চূড়ান্ত হয়েছে, ‘নিশ্চয় নিশ্চয় জাহান্নাম পূর্ণ করবো জিন ও মানুষ উভয়কে সম্মিলিত করে।
এবং সব কিছু আমি আপনাকে রসূলগণের সংবাদই শুনাচ্ছি, যা দ্বারা আমি আপনার হৃদয়কে দৃঢ় করবো এবং এ সূরায় আপনার নিকট সত্য এসেছে এবং মুসলমানদের জন্য উপদেশ ও নসীহত।
এবং আল্লাহ্রই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের অদৃশ্য বিষয়াদি আর তারই দিকে সমস্ত কাজের প্রত্যাবর্তন; সুতরাং তারই বন্দেগী করো এবং তারই উপর ভরসা রাখো। আর তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে আপনার রব অনবহিত নন।