ন্যায় বিচার সম্বলিত কিতাব; যাতে আল্লাহ্র কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং ঈমানদারদেরকে, যারা সৎকর্ম করে, সুসংবাদ দেন যে, তাদের উত্তম পুরস্কার রয়েছে;
যখন ওই যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিলো, অতঃপর বললো, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে তোমার নিকট থেকে অনুগ্রহ দান করো এবং আমাদের কাজকর্মে আমাদের জন্য সঠিক পথ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করো।
এবং আমি তাদের চিত্তের দৃঢ়তাকে মজবুত করে দিয়েছি যখন তারা দণ্ডায়মান হয়ে বললো, ‘আমাদের রব হন তিনিই, যিনি আসমান ও যমীনের রব, আমরা তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বূদের ইবাদত করবো না। এমন হলে আমরা অবশ্যই সীমালঙ্ঘনের কথা বলেছি।
এ যে আমাদের সম্প্রদায়, তারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য খোদা স্থির করে রেখেছে; তারা কেন তাদের সম্মুখে কোন স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করছেনা? অতঃপর তার চেয়ে অধিক যালিম কে, যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে?’
এবং যখন তোমরা তাদের নিকট থেকে ও যা কিছু তারা আল্লাহ্ ব্যতীত পূজা করছে সেসব থেকে পৃথক হয়ে যাও, তখন গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করো। তোমাদের রব তোমাদের জন্য আপন দয়া বিস্তার করবেন এবং তোমাদের কাজের সহজতার উপায়-উপকরণ তৈরী করে দেবেন।
এবং হে মাহবূব! আপনি সূর্যকে দেখবেন যে, যখন তা উদিত হয় তখন তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলে যায় এবং যখন অস্ত যায় তখন তাদের বাম পার্শ্ব দিয়ে হেলে অতিক্রম করে যায়; অথচ তারা ওই গুহার উন্মুক্ত চত্বরে রয়েছে। এটা আল্লাহ্র নিদর্শনগুলোর অন্যতম। যাকে আল্লাহ্ সৎপথ দেখান, তবে সেই সঠিক পথে আছে এবং যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তবে কখনো তার কোন অভিভাবক, পথ প্রদর্শনকারী পাবেন না।
এবং আপনি তাদেরকে জাগ্রত মনে করবেন অথচ তারা নিদ্রিত; আর আমি তাদেরকে ডান-বাম পার্শ্বদ্বয় পরিবর্তন করাই এবং তাদের কুকুর আপন সম্মুখের পা দু’টি প্রসারিত করে আছে গুহাদ্বারে চৌকাঠের উপর। হে শ্রোতা! যদি তুমি তাদেরকে উকি দিয়েও দেখো তাহলে তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করবে এবং তাদের ভয়ে পূর্ণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
এবং এভাবেই আমি তাদেরকে জাগরিত করলাম যে, তারা একে অপরের অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের মধ্যে একজন জিজ্ঞাসাকারী বললো, ‘তোমরা এখানে কতকাল অবস্থান করেছো? কেউ কেউ বললো, ‘একদিন অবস্থান করেছি অথবা একদিনের কিছু কম’। অন্যান্যরা বললো, ‘তোমাদের রবই ভাল জানেন কতকাল তোমরা অবস্থান করেছো। সুতরাং তোমাদের মধ্যে একজনকে এ রৌপ্যমুদ্রা নিয়ে নগরে প্রেরণ করো! অতঃপর সে গভীরভাবে লক্ষ্য করবে যে, সেখানে কোন খাদ্য অধিক পবিত্র যেন তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু খাদ্য নিয়ে আসে এবং সে যেন নম্রতা অবলম্বন করে এবং কোনভাবেই যেন কাউকেও তোমাদের সম্বন্ধে কিছু জানতে না দেয়।
এবং এ ভাবে আমি তাদের বিষয় জানিয়ে দিলাম, যাতে লোকেরা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি সত্য এবং ক্বিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই; যখন ওই সব লোক তাদের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করতে লাগলো; অতঃপর (তারা) বললো, ‘তাদের গুহার উপর কোন ইমারত নির্মাণ করো!’ তাদের রব তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তারা বললো, যারা এ বিষয়ে প্রবল ছিলো। ‘শপথ রইলো যে, আমরা তাদের উপর মসজিদ নির্মাণ করবো’।
এখন বলবে, ‘তারা তিনজন, চতুর্থটি তাদের কুকুর; এবং কিছুলোক বলবে, ‘তারা পাচজন, ষষ্ঠটি তাদের কুকুর’-না দেখে অনুমাণের উপর ভিত্তি করে; এবং কিছুলোক বলবে, ‘তারা সাতজন আর অষ্টমটি তাদের কুকুর’। আপনি বলুন, ‘আমার রব তাদের সংখ্যা ভাল জানেন’। তাদের সংখ্যা জানে না, কিন্তু অল্প কয়েকজনই। সুতরাং তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করো না, কিন্তু এতটুকু আলোচনা, যা প্রকাশ পেয়েছে; এবং তাদের সম্পর্কে কোন কিতাবীকে কিছু জিজ্ঞাসা করো না।
‘আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে এ কথা না বলে’। এবং আপন রবকে স্মরণ করো যখন তুমি ভুলে যাও- এবং এভাবে বলো, ‘সম্ভবতঃ আমার রব আমাকে এটা অপেক্ষা সত্যের নিকটতর পথ দেখাবেন।
আপনি বলুন, ‘আল্লাহ্ ভাল জানেন তারা কতকাল অবস্থান করেছে; তারই জন্যই আসমানসমূহ ও যমীনের সমস্ত অদৃশ্য বিষয়; তিনি কতই উত্তম দেখেন এবং কতই উত্তম শুনেন! তিনি ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক নেই এবং তিনি আপন হুকুমদানের মধ্যে কাউকেও শরীক করেন না।
এবং আপন আত্নাকে, তাদেরই সাথে সম্বন্ধযুক্ত রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় আপন রবকে আহ্বান করে, তার সন্তুষ্টি চায় এবং আপনার চক্ষুদ্বয় যেন তাদেরকে ছেড়ে অন্য কারো দিকে না ফিরে; আপনি কি পার্থিব জীবনের শোভা সৌন্দর্য কামনা করবেন? এবং তার কথা মানবেন না, যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি এবং সে আপন খেয়াল খুশীর অনুসরণ করেছে আর তারা কার্যকলাপ সীমাতিক্রম করে গেছে।
এবং বলে দিন, ‘সত্য তোমাদের রবের নিকট থেকেই; সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা কুফর করুক। নিশ্চয় আমি যালিমদের জন্য ওই আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার দেয়ালগুলো তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নেবে এবং যদি পানির জন্য ফরিয়াদ পূর্ণ করা হবে ওই পানি দ্বারা, যা গলিত ধাতুর ন্যায়। যে, তার মুখমণ্ডল ভুনে ফেলবে। কতই নিকৃষ্ট পানীয় এবং দোযখ কতই নিকৃষ্ট অবস্থানের জায়গা!
তাদের জন্য রয়েছে বসবাসের বাগান। সেগুলোর নিম্নদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবহমান এবং সেখানে তাদেরকে স্বর্ণের কনকন পরানো হবে আর তারা সূক্ষ্ম ও পরু রেশমের সবুজ বস্ত্রপরিধান করবে, সেখানে সুসজ্জিত আসনের উপর সমাসীন হবে; কতই উত্তম পুরস্কার এবং জান্নাত কতই উত্তম আরামদায়ক স্থান!
এবং তাদের সম্মুখে দু’জন পুরুষের অবস্থা বর্ণনা করুন- তাদের মধ্যে একজনকে আমি আঙ্গুরের দু’টি বাগান দিয়েছি এবং ওই দু’টিকেই খেজুর বৃক্ষসমূহ দ্বারা ঢেকে নিয়েছি আর ওই দু’টির মাঝে মাঝে শস্যক্ষেত্র রেখেছি।
তার সাথী তার প্রত্যুত্তরে বললো, ‘তুমি কি তারই সাথে কুফর করছো, যিনি তোমাকে মাটি থেকে তৈরী করেছেন, অতঃপর পরিশোধিত পানির ফোটা থেকে; তারপর তোমাকে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ করেছেন?
এবং কেন এমন হলো না যে, যখন তুমি আপন বাগানে প্রবেশ করেছো তখন বলতে- আল্লাহ্ যা চান (তাই হয়); আল্লাহ্র সাহায্য ব্যতীত আমাদের কোন শক্তি নেই। যদি তুমি আমাকে তোমার চেয়ে ধনে ও সন্তান সন্ততিতে নিকৃষ্টতর হিসেবে দেখতে-
তবে এটা সন্নিকটে যে, আমার রব আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানের উপর আসমান থেকে বিজলীসমূহ অবতারণ করবেন; তখন তা উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত হয়ে থেকে যাবে;
এবং সেটার ফল (বিপর্যয়ে) পরিবেষ্টিত হলো তখন আপন হাত মোচড়াতে মোচড়াতে রয়ে গেলো ওই মূলধনের উপর যা এ বাগানে ব্যয় করেছিলো এবং তা আপন মাচানগুলোর উপর পতিত হলো এবং বলতে লাগলো, ‘হায়, আমি যদি কাউকেও আপন রবের সাথে শরীক না করতাম’।
এবং তাদের নিকট পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুনঃ যেমন- এক পানি আমি আসমান থেকে অবতীর্ণ করেছি, অতঃপর সেটার মাধ্যমে ভূমির উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদগত হলো, যা শুষ্ক ঘাস হয়ে গেলো, যাকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ্ প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান’।
এবং সবাইকে আপনার রবের সম্মুখে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। নিঃসন্দেহে, তোমরা আমার নিকট তেমনিভাবে এসেছো যেমন আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম; বরং তোমাদের ধারণা ছিলো যে, আমি কখনো তোমাদের জন্য কোন প্রতিশ্রুতির সময় রাখবো না।
এবং আমলনামা রাখা হবে, অতঃপর আপনি অপরাধীদেরকে দেখবেন যে, তারা তার লিখন থেকে ভীত থাকবে এবং বলবে, ‘হায়, দুর্ভাগ্য আমাদের! এ লিপিটার কি হলো! সেটা তো না এমন কোন ছোট গুনাহকে বাদ দিয়েছে, না বড়কে, যা তাকে পরিবেষ্টন করে নেয় নি’। আর তারা নিজেদের সব কৃতকর্ম সামনে পাবে; এবং আপনার রব কারো উপর যুল্ম করেন না।
এবং স্মরণ করুন, যখন আমি ফিরিশতাদেরকে বলেছি, ‘আদমকে সাজদা করো!’ তখন সবাই সাজদা করলো ইবলীস ব্যতীত; সে জিন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। অতঃপর সে আপন রবের নির্দেশ থেকে বের হয়ে গেলো। তবে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরকে আমার পরিবর্তে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছো? এবং তারা তোমাদের শত্রু। যালিমগণ কতই নিকৃষ্ট বিনিময় পেলো!
না আমি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি কালে তাদেরকে সামনে বসিয়ে নিয়েছিলাম, না খোদ তাদেরকে সৃষ্টি কালে এবং না এ কথা আমার জন্য শোভা পায় যে, পথভ্রষ্টকারীদেরকে বাহু বানিয়ে নেবো।
এবং যেদিন বলবেন, ‘আহ্বান করো আমার শরীকদেরকে, যা তোমরা ধারণা করতে!’ তখন তারা তাদেরকে আহ্বান করবে। তারা তাদেরকে জবাব দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যস্থলে এক ধ্বংসের ময়দান করে দেবো।
এবং মানুষকে কোন বস্তু এতে বাধা প্রদান করেছে যে, তারা ঈমান আনতো যখন হিদায়ত তাদের নিকট এসেছে এবং আপন রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো? কিন্তু এটাই যে, তাদের উপর পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে গৃহীত রীতি আসবে, কিংবা তাদের উপর বিভিন্ন ধরনের শাস্তি আসবে।
এবং আমি রসূলগণকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপেই এবং যারা কাফির তারা বাতিলের আশ্রয় নিয়ে বিতণ্ডা করে যাতে তা দ্বারা সত্যকে অপসারণ করে দেয় এবং তারা আমার আয়াতসমূহকে এবং যেই ভয়ের বাণী তাদেরকে শুনানো হয়েছিলো ওইগুলোকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করে নিয়েছে।
এবং তার চেয়ে অধিক যালিম কে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার হস্তদ্বয় যা অগ্রে প্রেরণ করেছে তা ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরগুলোর উপর আবরণ করে দিয়েছি যাতে ক্বোরআন না বুঝে এবং তাদের কানগুলোতে বধিরতা। আর যদি আপনি তাদেরকে হিদায়াতের প্রতি আহ্বান করেন তবুও তারা কখনো সৎপথ পাবে না।
এবং আপনার রব ক্ষমাশীল, দয়ালু। যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের উপর পাকড়াও করতেন, তাহলে শিগ্গিরই তাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করতেন; বরং তাদের জন্য একটা প্রতিশ্রুতির সময় রয়েছে, যার সামনে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।
এবং স্মরণ করুন! যখন মূসা আপন খাদেমকে বললো, ‘আমি ক্ষান্ত হবো না যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে পৌছবো না যেখানে দু’টি সমুদ্র মিলিত হয়েছে অথবা যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবো।
বললো, ‘ভালো দেখুন তো! যখন আমরা ওই শিলাখণ্ডের নিকট আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন নিশ্চয় আমি মাছের কথা ভুলে গেছি এবং আমাকে শয়তানই ভুলিয়ে দিয়েছিলো সেটার কথা উল্লেখ করতে এবং সেটা তো সমুদ্রের মধ্যে আপন পথ করে নিয়েছে, আশ্চর্যজনকভাবে’।
অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলো। শেষ পর্যন্ত যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলো, তখন ওই বান্দা সেটাকে ছেদ করে দিলো। মূসা বললো, ‘তুমি কি এটা এ জন্য ছেদ করেছো যে, এর আরোহণকারীদের নিমজ্জিত করে দেবে? নিঃসন্দেহে, তুমি এটা মন্দ কাজই করেছো’।
অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলো। শেষ পর্যন্ত যখন একটা বালকের সাথে সাক্ষাৎ হলো তখন ওই বান্দা তাকে হত্যা করে ফেললো। মূসা বললো, ‘তুমি কি একটা নির্দোষ প্রাণ অন্য কোন প্রাণের বদলে ব্যতীতই হত্যা করে ফেললে? নিশ্চয় তুমি গুরুতর অন্যায় কাজ করেছো’।
অতঃপর উভয়ে চললো; শেষ পর্যন্ত যখন একটা গ্রামের অধিবাসীদের নিকট এলো, তখন গ্রামবাসীদের নিকট খাদ্য চাইলো। তাদের আতিথেয়তা করতে তারা অস্বীকার করলো। অতঃপর উভয়ে ওই গ্রামে এমন একটা প্রাচীর পেলো, যা পতিত হবার উপক্রম হয়েছিলো। ওই বান্দা সেটাকে সোজা করে দিলো। মূসা বললো, ‘তুমি ইচ্ছা করলে সেটার জন্য কিছু পারিশ্রমিক নিতে পারতে’।
ওই যে নৌকা ছিলো, সেটা এমন কিছু অভাবগ্রস্ত লোকেরই ছিলো; যারা সমুদ্রে কাজ করতো; অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটাকে ত্রুটিযুক্ত করে দেবো। এবং তাদের পেছনে একজন বাদশাহ ছিলো যে প্রত্যেক ত্রুটিমুক্ত নৌকা বল প্রয়োগ করে ছিনিয়ে নিতো।
বাকী রইলো ওই প্রাচীর। তা ছিলো নগরের দু’জন এতিম বালকের এবং সেটার নীচে তাদের গুপ্ত ধন-ভাণ্ডার ছিলো এবং তাদের পিতা সৎলোক ছিলো। সুতরাং আপনার রব ইচ্ছা করলেন যে, তারা উভয়ে তাদের যৌবনে পদার্পণ করুক এবং তারা আপন ধন-ভাণ্ডার উদ্ধার করুক; আপনার রবের অনুগ্রহ থেকে। আর এসব কিছু আমি নিজ ইচ্ছায় করি নি। এটা হচ্ছে ব্যাখ্যা ওই সব বিষয়ের যেগুলোর উপর আপনার পক্ষে ধৈর্যধারণ করা সম্ভবপর হয় নি’।
শেষ পর্যন্ত যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার স্থানে পৌছালো, তখন সে সেটাকে একটা কালো কাদাময় জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখতে পেলো এবং সেখানে একটা সম্প্রদায়কে দেখতে পেলো। আমি বললাম, ‘হে যুল ক্বারনাঈন! হয়তো তুমি তাদেরকে শাস্তি দেবে অথবা তাদের প্রতি উত্তম পন্থা অবলম্বন করতে পারো’।
তারা বললো, ‘হে যুলক্বারনাঈন! নিশ্চয় ইয়া’জূজ ও মা’জূজ ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি সৃষ্টি করছে; সুতরাং আমরা কি আপনার জন্য কিছু অর্থ যোগান দেবো এ শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটা প্রাচীর গড়ে দেবেন?’
বললো, ‘যার উপর আমার রব আমাকে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই উৎকৃষ্ট; সুতরাং আমাকে সাহায্য শক্তি দ্বারা করো। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যখানে একটা মজবুত প্রাচীর গড়ে দেবো;
আমার নিকট লোহার পাতসমূহ নিয়ে এসো’। শেষ পর্যন্ত তারা যখন প্রাচীরের দু’পর্বতের পার্শ্বগুলোর সমান করে দিলো, তখন বললো ‘তোমরা ফুকতে থাকো’। শেষ পর্যন্ত যখন সেটাকে আগুন করে দিলো তখন বললো, ‘নিয়ে এসো, আমি এর উপর গলিত তামা ঢেলে দিই’।
এবং সেদিন আমি তাদেরকে এ অবস্থায় ছেড়ে দেবো যে, তাদের একদল অপর দলের উপর সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় পতিত হবে এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি সবাইকে একত্রিত করে আনবো।
এ সব লোক তারাই, যারা আপন রবের আয়াতসমূহ এবং তার সাথে সাক্ষাতের বিষয়কে অস্বীকার করেছে। অতঃপর তাদের কী রইলো। সবই নিষ্ফল হয়েছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য ক্বিয়ামত দিবসে কোন ওজন স্থির করবো না।
আপনি বলে দিন, ‘যদি সমুদ্র আমার রবের বাণীসমূহ লেখার জন্য কালি হয়, তবে অবশ্যই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আমার রবের বাণীসমূহ শেষ হবে না, যদিও আমি অনুরূপ আরো (সমুদ্র) এর সাহায্যার্থে নিয়ে আসি।
আপনি বলুন, ‘প্রকাশ্য মানবীয় আকৃতিতে আমি তোমাদের মতো, আমার নিকট ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মা’বূদই। সুতরাং যার আপন রবের সাথে সাক্ষাৎ করার আশা আছে তার উচিত যেন সে সৎকর্ম করে এবং সে যেন আপন রবের ইবাদতে অন্য কাউকেও শরীক না করে।